আমার দেখা এক বিভীষিকাময় দিন ২৪ জানুয়ারি ১৯৮৮।
বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী
শেখ হাসিনা মাইকে ঘোষণা করছেন তোমরা গুলি বন্ধ কর আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা
নির্দেশ দিচ্ছি তোমরা গুলি করা বন্ধ কর।
১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারী চট্টগ্রাম
কোর্ট হিলের নিচে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে শুরু করেছিল জাতির জনকের কন্যাকে হত্যা
করার নেশায় রক্তের হুলি খেলা।
ঐদিন চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ৮
দলীয় জোটের জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি জাতির পিতার কন্যা জননেত্রীশেখ হাসিনা লাখো জনতার
জনসভায় স্বৈরতন্ত্র হঠিয়ে গণতন্ত্র উদ্ধারের কথা বলবেন।
সেদিন আমরা ২৬ ও ৩৭ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী
লীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ এর কেশ
কিছু নেতাকর্মী বাস যোগে হালিশহর চৌচালা থেকে রওনা হলাম লালদিঘির উদ্দেশ্যে গাড়ীতে
ছিলাম ২৬ নং ওয়ার্ড থেকে আমি (মোঃ আখতার
উদ্দিন চৌধুরী),মোঃ হারুন হারুন(বর্তমানে আমেরিকা
প্রবাসী)জানে আলম আর ৩৭ নং ওয়ার্ড থেকে এম
এ মান্নান(বর্তমানে ৩৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাঃ সম্পাদক ও নির্বাচিত কাউন্সিলর)
সৈয়দ এনামুল হক ,মন্জুর আলম,নাছির,সৈয়দ মোঃ হারুন সহ
আরো অনেকে।
সেদিন চট্টগ্রাম শহর ছিল জনসমুদ্র
আমাদের বাস দেওয়ান হাট গিয়ে আটকে গেল,সামনে আর এগুতে পারেনি জনসভায় আসা মানুষের ভিড়ের কারণে। পায়ে হেটে চলে গেলাম আমরা
লালদিঘির একেবারে নিকটে এরি মধ্যে আমরা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়,আমি হাটতে হাটতে চলে গেলাম কোর্টহিলের রাস্তার মুখে এরি মধ্যে
জনেনেত্রী শেখ হাসিনাকে বহন কারি ট্রাক এসে উপস্হিত হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে নেত্রীকে
বহন কারি ট্রাকের গতিরোধ করে পুলিশ,তর্কবির্তক চলছিল নেত্রীর গাড়িতে থাকা নেতবেৃন্দে সাথে পুলিশের।
সাজেদা চৌধুরীর সাথে পুলিশ অফিসারের
তর্ক ঐ পুলিশ অফিসার সাজেদা চৌধুরীকে বলছিল আপনারা লালদিঘীর মাঠে যাবেন না, যাওয়ার চেষ্টা করলে আমরা গুলি করবো আমাদের গুলি করার নির্দেশ
আছে।
সাজেদা চৌধুরী হুংকার দিয়ে পুলিশকে
বল্লেন গুলি করো আমরা লালদিঘীর মাঠে যাব এবং সভা করবো তোমরা গাড়ির সামনে থেকে সড়ে যাও।
জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারি ট্রাকটিতে একেবারে সামনে ছিল তোফায়ের আহাম্মদ,আমির হোসেন আমু, তার পর জননেত্রী শেখ হাসিনা মাঝখানে,সাজেদা চৌধুরী ছিল গাড়ির উপর সর্ব বামে যার কারণে বামপাশে পুলিশের সাথে তাঁর তর্কবির্তক
হচ্ছিল।
এভাবে তর্ক বির্তকের এক পর্যায়ে শুনলাম
গুলির বিকটশব্দ জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাকের অল্প দুরে
মাটিতে লুঠিয়ে পড়েন একজন রক্তে লাল হয়ে যায় রাজপথ,গুলির শব্দ ও চোখের সামনে রক্তাক্ত লাশ দেখে জ্ঞানশূন্য হয়ে গেলাম।সাথে সাথে শুরু
হয়ে গেল চতুরদিকে বৃষ্টির মত গুলি বর্ষন,আমি একটু পিছনে সরে গেলাম তখন শুনতেছি জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা
মাইকে ঘোষণা করছেন তোমরা গুলি বন্ধ কর আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা নির্দেশ দিচ্ছি
তোমরা গুলি করা বন্ধ কর।
কিন্তু না স্বৈরাচার এরশাদের পেটুয়া
বাহিনী গুলি চালানো বন্ধ করছেনা,এর মধ্যে আইনজিবী,আওয়ামী লীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের
জনসাধারন বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার
গাড়িকে কোর্টবিল্ডিং এর দিকে নিয়ে আসছে। এর পর ওখানে আর দাড়ানো সম্ভব হচ্ছিলনা,দৌড়ে কোটবিডিং এর উপরে উঠে ডানদিকে জহুর হকার মার্কেটের দিখে
যেতে চাইলাম না এখানেও পুলিশ বেধড়ক পিটাচ্ছে (পরে শুনেছি সেখানে তৎকালীন চট্টগ্রাম
মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাঃ সম্পাদক সেকান্দর হায়াত খান ও এ কে এম বেলায়েত
হোসেন পুলিশের আঘাতে গুরুত্বর আহত হয়েছে (চট্টলবীর আলহাজ্ব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী
তখন স্বৈরাচার এরশাদের জেলখানায় বন্দী) ওদিকে যেতে নাপেরে আবার কোর্টবিল্ডিং এর উপরে
উঠে ঝোপজঙ্গল পেরিয়ে বিপনী বিতানের নিচ তলায় আসলাম মনে করেছিলাম হয়তোবা এদিকে পরিস্হিতি
শান্ত আছে,কিন্ত্ত না এদিকে এসে যা দেখলাম যে
বিভীষিকাময় ঘটনা দেখলাম তা কোনদিনও ভূলে যাওয়া সম্ভব নয়।
নিউ মার্কেটের দিকে এসে স্বৈরাচার এরশাদের পুলিশ ও বিডিআর (বর্তমান বিজিবি)বাহিনী যে ভাবে গুলি করছে তা দেখে হতবাক হয়ে গেলাম।
নিউমার্কেটের মোড়ে থেকে ছাত্র জনতা
দারুল ফজল মার্কেটের দিকে মিছিল করে শ্লোগান দিয়ে যাওয়া শুরু করা মাত্র পুলিশ আর বিডিআর
আমতলা ও অর্পনাচরণ স্কুলের সামনে থেকে ঠিক ছাত্র জনতার বুক বরাবর বৃষ্টির মত গুলি চালাচ্ছিল
সাথে সাথে মাঠিতে লুঠিয়ে পড়ছিল ছাত্র জনতার রক্তাক্ত দেহ রাজপথ ছাত্র জনতার রক্তেরঞ্জিত
হয়ে গেল।সে এক বর্বর ঘটনা বিভীষিকাময় দিন।
রাজপথে ছাত্র জনতার নির্জীব দেহ গুলি
পড়ে আছে এরি মধ্যে বিডিআর অনেক গুলি লাশ গাড়ীতে করে নিয়ে গেল।অনেক ক্ষণ আটকে রইলাম
নিউমার্কেটের ভিতর ,আমরা যারা একসাথে
হালিশহর চৌচালা থেকে এসেছিলাম তাদের ও হারিয়ে ফেলেছি,জীবনে প্রথম নিজ চোখের এমন বর্বর হত্যাকান্ড হতে দেখে জ্ঞানবুদ্ধি
সব হারিয়ে এক ভিতিকর অবস্হায় পড়ে গেলাম। ধীরে ধরে সন্ধ্যা নেমে এল যে শরীরটি স্বৈরাচার
এরশাদের পেটুয়া বাহিনীর গুলি থেকে মাত্র দশ ফুট দুরেছিল সে শরীরটি নিয়ে আস্তে আস্তে
হাঁটা শুরু করলাম নিজ গন্তব্যে।



No comments