এই সময় মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাটাই সেরা কাজ-হাসান মনসুর
কৃতজ্ঞতা ধন্যবাদ আমার ভাই কাউন্সিলর মোঃ গিয়াস উদ্দিনকে যার শ্রম, সার্বিক সহযোগিতায় এই আয়োজন পূর্নতা পেয়েছে।
পবিত্র রমজানের ২০ দিন শেষ হলো- একই সাথে চলছে "কঠোর লকডাউন"। লোকজন নিয়ে চলা, বাইরে ঘোরাঘুরি করা লোক আমি - তাই এইরকম পরিস্থিতি আমার কাছে শাস্তির মতো। তাই রোজা শুরুর আগেই পরিকল্পনা করেছিলাম সময়টা কাটাবো বাড়ীর পাশেই মসজিদে।ধর্ম কর্মে এতো পাক্কা না হলেও, বাড়ীর পাশের মসজিদের দায়িত্ব পালন করি। প্রতিবার রমজানে এই মসজিদে ৫০/৬০ মুসল্লীদের সাথে ইফতার করতাম। এবার "লক ডাউন" পরিস্থিতিতে একসাথে বসে ইফতার করার সুযোগ নাই। তাই পরিকল্পনা করেছিলাম দৈনিক ২৫০/৩০০ রোজদার মানুষকে তৈরী প্যাকেটজাত ইফতার হাতে তুলে দিবো। প্রতিবেশী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা - চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র, এলাকার কাউন্সিলর মোঃ গিয়াসউদ্দিন ভাই এই আয়োজনের পরিকল্পনা শুনে - এ কার্যক্রমকে আরো লম্বাচওড়া করে ফেলেন।
১ম রোজা থেকেই মসজিদের পাশে চুলা বসিয়ে, প্রফেশনাল বাবুর্চির ২ নং হেলপারকে হেড কুক বানিয়ে আমাদের কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছি। কিভাবে যে ২০ রোজা পার হয়ে গেছে, তা বুঝতেই পারি নাই - নিকটাত্মীয় মারা যাওয়ায় রোজার মাসে শুধু ১ বারই নিজের গলি থেকে বের হতে হয়েছে। তা না হলে মসজিদ আর ঘরই আপাতত আমার একমাত্র ঠিকানা। খুব ব্যস্ত সময় কাটছে।
সারাবছর সাথে পাশে থাকা প্রিয় ছোটভাই গুলো একাজে সকাল থেকে নিরবচ্ছিন্ন কায়িক শ্রম দিচ্ছে। ফেসবুক চালাই ২০০৭ সাল থেকে কোনোসময় এরকম কুসংস্কার বিশ্বাস করি নাই - মনে হতো এই ইফতার আয়োজন নিয়ে আমি ফেসবুকে পোস্ট দিলে হয়তো আয়োজনে কুনজর পরবে বা আমি অসুস্থ হয়ে পড়বো (করোনা পজিটিভ হয়ে ৫ মাস আগে ICU তে ছিলাম), তাই অনেকবার লিখেও কেটে দিয়েছি - পোস্ট করি নাই। মনের অজান্তে লিখতে লিখতে লেখাটি বড় হয়ে গেল - ভাবলাম ছেড়ে দেই।
আল্লাহকে রাজী করাতে এবং তার সৃষ্টির খুশীর জন্যেই এই আয়োজন। এসবের ছবি দেয়া অনেকের কাছে সস্তা প্রচার/ রাজনীতি মনে হলেও -- অনেক সময় এরকম সমন্বিত পরিকল্পিত আয়োজন অন্যদেরও উৎসাহিত করে। আমরা চাই সবাই এগিয়ে আসুক এধরণের মানবিক কর্মকান্ডে - কারন সময়টা দুর্যোগ - মহামারীর। এই সময় মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাটাই সেরা কাজ। এবার আসি আমাদের আয়োজনে -- আবেগপ্রবণ হই প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষী সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - অপরিচিত - অদেখা মানুষগুলোর নিঃশর্ত ভালোবাসার উপহার পেয়ে। তাদের সাহস সমর্থন না পেলে আমি কিছুই করার সুযোগ ছিলনা।
পদপদবী ছাড়া নগন্য একজন রাজনৈতিক কর্মী আমি - মানুষের থেকে পাওয়া এই সম্মান আমার আগামীর প্রেরনা নিঃসন্দেহে।আবারও কৃতজ্ঞতা ধন্যবাদ আমার ভাই কাউন্সিলর মোঃ গিয়াস উদ্দিনকে - যার শ্রম, সার্বিক সহযোগিতায় এই আয়োজন পূর্নতা পেয়েছে। হিংসা, গীবত, সমালোচনা করা লোকগুলো শুধু কথা বলে - নিজে কিছু করার যোগ্যতা রাখেনা -- আমি আমার অনুজ প্রতিম সহকর্মীদের এটাই বুঝাতে চেষ্টা করেছি - কাউকে সাহায্য করতে পারা, তাদের মুখে সামান্য হাসি ফোটাতে পারাটাই রাজনীতি। কারো কাজকে হিংসা করে নয় -- জিদ করে এর চেয়ে ভালো কিছু করতে পারাটাই বাহাদুরি।
প্রতিদিন ৫৫০ প্যাকেট তৈরি ইফতার প্যাকেট আমরা সম্মানিত রোজদারদের হাতে তুলে দিচ্ছি - ইনশাআল্লাহ রোজার ৩০ দিনই আমরা এটা চালিয়ে যাবো । আমাদের Team এর সকল সদস্যদের সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ এই পবিত্র মাসের উসিলায় করোনা থেকে পুরো বিশ্ববাসীকে রক্ষা করুন। আমিন।
হাসান মনসুর
সাঃ সম্পাদক (সাবেক) কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগ,চট্টগ্রাম মহানগর।






No comments