"রনিরা হারতে পারেনা"-ইতিহাস এটাই বলে - এ কে এম বেলায়েত হোসেন
"রনিরা হারতে পারেনা"
রনিদের পরাজয় নেই। রনিরা হেরে গেলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংশ হয়ে যাবে।
১৯৬৮ সালের কথা আমি তখন সন্দ্বীপ কার্গিল হাই স্কুলে শিক্ষকতা করছিলাম। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ম্যাট্রিক পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোচিং ফি সহ সর্বমোট নির্ধারিত ফি'র অতিরিক্ত আড়াই হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা আদায় করেন। আমি এর বিরোধিতা করলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহোদয়
ম্যানেজিং কমিটির সেক্রেটারিও অপর এক সদস্য সহ আমার বিরুদ্ধে ষঢ়যন্ত্র শুরু করেন। তারা আমাকে পদত্যাগ পত্র দিয়ে স্বেচ্ছায় স্কুল ত্যাগ করে চলে যেতে
বলেন। তখন সন্দ্বীপের তদানিন্তন সাংসদ এডভোকেট
এডিএমএম মাওলার আহ্বানে কমিটির অপরাপর সদস্যবৃন্দ - এডভোকেট আবদুর রহিম,হাজী আবদুল বাতেন সওদাগর প্রমুখ আমার পক্ষে অবস্থান নেন। পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকগন সকলে জয়েন্ট স্বাক্ষরে
তদানিন্তন এসডিও (নর্থ) বরাবরে অভিযোগ পেশ করেন। এসডিওর নির্দেশে লোক্যাল ম্যাজিষ্ট্রেট বাধ্য হয়ে কমিটি সভা আহ্বান করে। কমিটি সভায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। প্রধান শিক্ষক স্বীয় অপরাধ স্বীকার করে আলাদা আলাদ ভাবে প্রত্যেক অভিভাবকের কাছ থেকে মাফ চেয়ে নিজের চাকুরী রক্ষা করেন।
তদন্ত কমিটি প্রধান শিক্ষকের দু'টি অপরাধ চিহ্নিত করেছিলেন : -
★ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা।
★ প্রতিবাদ কারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ষঢ়যন্ত্র
করে তাকে চাকুরীচ্ছুত করার চেষ্টা করা।
পঞ্চাশ বছর পর চকবাজারস্ত বিজ্ঞান কলেজে ঠিক যেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখলাম। এখানেও কলেজের দুর্নীতিবাজ প্রিন্সিপ্যাল জাহেদ মারাত্মক দু'টি অনৈতিক অপরাধ করেছে:-
★ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ অনৈতিক ভাবে
জবরদস্তি মুলক অর্থ আদায় করা।
★ অনৈতিক কাজের প্রতিবাদকারী ছাত্র নেতা রনির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর মিথ্যা মামলা দায়ের করা।
"শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড।"সে মেরুদন্ড ক্যান্সার আক্রান্ত
জাহেদরাই হচ্ছে ক্যান্সার জীবানু যা ধ্বংশ করতে হবে।
এদেশের শিক্ষা ব্যাবস্থাকে ধ্বংশ করার সকল ষঢ়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সব সময় ছাত্ররাই সোচ্ছার ছিল। ভুলে গেলে চলবেনা ৫২ এবং ৬২ তে ছাত্ররাই শিক্ষার জন্য বুকের রক্ত দিয়েছ। সে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতি মুক্ত করার জন্য আন্দোলন করে রনিরা নিশ্চই কোন অন্যায় করেনি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দূর্ণীতিমুক্ত করার লক্ষে জনাব জাহেদ'র মত দূর্ণীতিবাজদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির ব্যাবস্থা করা অত্যন্ত জরুরী। দেশের সকল
শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্ঘ জাহেদদের মত দূর্ণীতিবাজদের
উৎখাত করে দেশের পবিত্র শিক্ষাঙ্গনকে কলঙ্কমুক্ত কারার লক্ষে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতি মুক্ত করে আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য
শিক্ষার সুন্দর সুষ্ঠ পরিবেশ সৃষ্টির দায়ীত্ব আপনার আমার আমাদের সকলের।
রনিদের পরাজয় নেই। রনিরা হেরে গেলে দেশের শিক্ষা
ব্যবস্থা ধ্বংশ হয়ে যাবে। 'জাতির মেরুদন্ড' ভেঙ্গে পরবে। আসুন সবাই একই সুরে বলি - "রনিরা দীর্ঘজীবি হোক।"
* আমার এলিখাটি ছিল রনির বিরুদ্ধে যখন মামলা হয় তখন।
"আজ প্রমাণিত হল" (চাঁদাবাজির প্রমাণ মেলেনি, নুরুল আজিম রনিকে অব্যাহতি)
রনিসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ জাহেদ খান করেছিলেন তদন্তে তার কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ। গত অক্টোবরে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।’
এ কে এম বেলায়েত হোসেন - উপদেষ্টা – চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ।




No comments