আমার রাজনীতির শিক্ষক চট্টলবীর আলহাজ্ব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী-হাসান মনসুর
আমার রাজনীতির শিক্ষকের সাথে শেষ কথা,চাক্ষুষ দেখা।
আমার রাজনীতির শিক্ষক চট্টলবীর আলহাজ্ব এ,বি,এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আজ ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী। প্রথম দুটি ছবি তার সাথে আমার জীবনের শেষ ছবি। মৃত্যু পূর্ববর্তী শেষবার হাসপাতালে যাবার ঠিক ২/৩ দিন আগেই আমি ব্যাংকক থেকে চিকিৎসা শেষে করে দেশে ফিরি। এসেই পরদিন সাত সকালে নেতার বাসায় দেখা করতে যাই। কোথায় ছিলাম? কি করলাম? কি কি ওষুধ দিয়েছে? অনেক কিছু জেনে নিয়ে - বললেন চল নাস্তা খাই। এরপর বিদায় নেবার জন্য অনুমতি চাইলাম। কি মনে করে- স্বভাবসুলভ চোখ বন্ধ করে তিনি বললেন যাবার পথে হযরত গরীব উল্লা শাহ (রা:) মাজার জিয়ারত করে যেতে।আমি বের হচ্ছিলাম আর দরজা দিয়ে বাসায় ঢুকছিলেন আমাদের পার্টি অফিসের সহকারী আমীর ভাই। তাকে দেখে আবার ভিতরে ঢুকলাম, আমির ভাইয়ের হাতে মোবাইল দিয়ে বললাম - একটা ছবি তুলেন। নেতাকে বললাম একটা ছবি তুলবো-- তিনি বললেন - তুললে সুন্দর করে তুলো - বলেই চেয়ার থেকে অনেক কষ্ট করে দাঁড়ালেন।তিনি চীৎকার করে তার সেবক ছেলেটাকে বললেন - ভিতর থেকে মুজিব কোট নিয়ে আনতে । উনি দাঁড়াতে খুব কষ্ট হচ্ছিল , আমি বললাম আপনি বসেন , আমি দাড়াই । উনি বললেন - না দাঁড়িয়েই ছবি তুলি। আমি নিজেই বোতাম লাগিয়ে দিলাম মুজিব কোটের। ছবি তুলে বের হতেই - স্লাইডিং ডোর বন্ধ করে দিয়ে আবার একটু ফাক গলিয়ে পিছন ফিরে তাকে একবার দেখলাম - তিনি বললেন , কিছু কইবি নি?? (কিছু বলবে?) -- আমি হেসে বললাম না! এটা বলেই বিদায় নিলাম।
এটাই আমার রাজনীতির শিক্ষকের সাথে শেষ কথা, চাক্ষুষ দেখা। আজ প্রিয় মানুষটার ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী। তিনি ছিলেন একজন মানবিক, দেশপ্রেমিক ও নীতিবান রাজনীতিবিদ। ক্লাস টেন থেকে তাকে সরাসরি দেখে এসেছি। ১৯৮৯ সালে ১৬ বছর ৭ মাস বয়সে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সম্মেলনে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম আমি - সেদিন আমাদের দামপাড়া এলাকায় তিনি নতুন কমিটির শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে। দীর্ঘ চলার পথে - এই মুরব্বি তুল্য অভিবাবককে কাছ থেকেই দেখেছি -- কখনো অন্যায়ের কাছে তাকে মাথা নত করতে দেখি নাই। মানুষকে খাওয়ানোতে, তাদের উপকার করতে পেরে - তিনি খুব খুশী হতেন। বর্তমান সময়ে তার মতো মানব দরদী ও আদর্শবান লোক খুব কমই আছে রাজনীতিতে। তার রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞ থেকে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক কর্মীদের অনেক কিছু শিক্ষণীয় আছে। দীর্ঘ ২ মাসের কাছাকাছি - আমি নিজেও শারীরিক অসুস্থতার কারনে, কখনো হাসপাতাল - কখনো বাসভবনে শয্যাশায়ী। তাই রাজনৈতিক সামাজিক অনুষ্ঠান দূরের কথা - ঘর থেকে বের হবার সুযোগ হচ্ছে না। আজ প্রিয় মহিউদ্দিন ভাইয়ের চলে যাওয়ার দিনে - তাকে নিয়ে অনেক স্মৃতি মনে হচ্ছে। প্রিয় মানুষটার মৃত্যুবার্ষিকীতে শারীরিক ভাবে উপস্থিত হয়ে তার কবর জিয়ারত ও আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারলাম না- বড়ই আফসোস লাগছে। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুণ, সবাই তার বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হউন। আমার জন্য দোয়া করবেন - যেন অচিরেই সুস্থ হয়ে আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পারি। আল্লাহ হাফেজ।।





No comments