Header Ads



শহীদ ছাত্রনেতা প্রিয় সহযোদ্ধা মহিম উদ্দিন স্মরণে -- হাসান মনসুর।


শহীদ ছাত্রনেতা প্রিয় সহযোদ্ধা মহিম উদ্দিন স্মরণে

রাজনীতি সস্তা করে ফেলেছে গুটিকয়েক আদর্শহীন কিছু মানুষ যারা মন থেকে মুজিবাদর্শ ধারন করেনা।

রাতে  আনমনে বসে বসে  পুরনো  ছবি দেখছিলাম। হাজারো ছবি আমার কম্পিউটারে। অবসরে দেখি। ছবি দেখতে দেখতে মনের অজান্তে আফসোস করে বললাম -  হায়! আমাদের এই ছবির  ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই নাই! আমার পাশেই  স্ত্রী বসা ছিল ? সে প্রশ্ন করলো কি নাই ? আমি এই ছবিটা দেখালাম।

আমার ছোটবেলার সাথী তিনজন , একই পাড়ার ছেলে , ফুটবল ক্রিকেট খেলেছি , "জয় বাংলা" স্লোগানের সাথী ছিলাম , আবার একই কলেজে  ছাত্রলীগের রাজনীতিও করেছিলাম। মানুষ বিদেশ যায় , কর্মসূত্রে অন্যত্র যায় কিন্তু এভাবে তারা চলে যাবে চিরতরে ভাবতেই পারিনি। আজ বন্ধু  মহিমের ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী। আলোচ্য ছবিতে সাথে থাকা তিনজনেই স্বাভাবিক মৃত্যুবরন করেননি। এদের নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো,  বিভিন্ন সময়ে - মুজিব আদর্শের আপোষহীন সৈনিক ছিল বলে। চট্টগ্রামের ১৯৯০ দশক থেকে শুরু করে ছাত্ররাজনীতির Legend এই  দুঃসাহসী ছাত্রনেতারা জীবন দিয়ে প্রমান করেছে - তারা জননেত্রী শেখ হাসিনার কতোটা অনুগত, বিশ্বস্ত ও আদর্শিক কর্মী ছিল।  অপ-রাজনীতির নির্মম বলি চট্টগ্রামের শহীদ ছাত্রনেতা শহীদ মহিমউদ্দিন, শহীদ কায়সার হোসেন, শহীদ আবুল কাশেম। স্বাধীনতা বিরোধী খুনী জামাত শিবির,  বিএনপি নামধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী  এবং আওয়ামী বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে চলমান সংগ্রামে --  তারা ছিল চট্টগ্রামের ছাত্রসমাজের সাহসের প্রতীক।  প্রতি বছর তাদের আত্মদানের দিনগুলোতে  আমরা তাদের বিশেষভাবে  স্মরণ করি। তাদের কবরে ফুল দেই - পারিবারিক সাপোর্ট নিয়ে  এখনো ২/১ জনের স্মৃতিচারণ সভা হয় - দেখি সেখানে তাদের অবদান,  সাহস,বীরত্ব, ত্যাগের কথা বলে মঞ্চ কাপানো হয়,  জানি শহীদ সহযোদ্ধাদের  অতৃপ্ত আত্মা এগুলো দেখে হাসে।আমরা কি আসলেই এই রাজনীতির জন্যেই অকালে ঝরে যাওয়া এই শহীদদের পথ ধরে হাটছি? দলের জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই প্রিয় সহযোদ্ধারা নিজের বা  পরিবারের সম্পদ বাচাতে লড়াই করেনি। তারা আাওয়ামীলীগের চরম দুঃসময়ে শেষ ধাপের ঝুঁকি নিয়েছিলে - বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য। চাইলে তারা আর ১০ জনের মতো সেফ সাইডে চলে যেতে পারতো ।

আজ দলে নেতার অভাব নাই, টাকাপয়সা, উচ্চ লেভেলে নেতাদের সাথে হট কানেকশান আর চামচা টাইপের কিছু ".... ভাই এগিয়ে চলো - আমরা আছি তোমার সাথে" ছেলেপেলে আর পেইড কর্মী থাকলেই হলো। একসময় দেখতাম আমাদের বা শহীদ বন্ধুদের সামনে মুখ কালো করে বসে থাকা অনেক সুবিধাবাদীরা আজ মহাত্যাগী  সেজে  বিশাল নেতার ভান ধরেছে। নতুন ভাবে মিথ্যাচার করা হয় -- অতীতের রাজনীতি,সংগ্রাম, বিপ্লব আর ত্যাগ নিয়ে।  ফেসবুকে  নিজের কর্মীদের ফরমাইসি দিয়ে লিখানো হয় কল্পিত মিথ্যা ত্যাগের  ইতিহাস --- এভাবেই মোটামুটি সফলও হচ্ছে কতিপয় নব্য মুজিব কোটধারী হাইব্রিড। তাদের প্রভাব, রাজনৈতিক সফলতায় এখন তাদেরকে ভরসা ভাবতে শুরু করেছে অনেকেই। কারন আাওয়ামীলীগ দীর্ঘদিন সরকারে থাকার কারনে নতুন রাজনীতিতে আসা অনেক নব্য বিপ্লবীও জানেনা দল ক্ষমতায় না থাকলে কি কি কতো প্রকার অত্যাচার, জেল, জুুলুম, নিপীড়ন সহ্য করতে হয়। ক্ষমতার রাজনীতি করাটা এখন "হরলিকস মজা লাগে - তাই  এমনি এমনি খাই" টিভি বিজ্ঞাপনের মতো হয়েছে। রাজনীতি সস্তা করে ফেলেছে গুটিকয়েক আদর্শহীন কিছু মানুষ যারা মন থেকে মুজিবাদর্শ ধারন করেনা। চলমান সময়ে এই তথাকথিত নব্য হাইব্রিডদের তৎপরতা আর  তাদের নিয়ে চাটুকারের গুণকীর্তন আর নাচানাচি দেখলে মনে হয় - দলের জন্য কঠিন ঝুকি নিয়ে নিজের পৈতৃক জীবন দেওয়াটাই ছিল সাথী শহীদ সহযোদ্ধাদের বোকামী। বাল্যবন্ধু শহীদ মহিম, কাশেম, কায়সার এই ৩ জনের মা এখনো বেচে আছেন। যত কথাই বলি - সময়ের খেলায় একদিন আমি নিজেও তাদের  ভুলে যাবো - কিন্তু তাদের "মা"  রা কি পারবে এই শোক ভুলতে? তোমাদের ভাইবোন? দলের সুদিনেও - দলের জন্য জীবন দেওয়া এই সাহসী তরুনদের  খুনের বিচার এখনো হয় নাই। শহীদ মহিমকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী  বিচার বহির্ভূত হত্যা করা হলেও  তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখনো উত্থাপন বা এই হত্যার যথাযথ যৌক্তিক কারন ব্যাখা করতে পারেনি। পরে আাওয়ামীলীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলেও এই হত্যার কোনো তদন্ত বা কারন জানতে চাওয়া হয়নি। তার মৃত্যর কিছুদিন পর তার শহীদ মহিমের ভাই গিয়াস উদ্দিন RAB অফিসে গিয়েছিলেন তার ভাইয়ের - মোবাইল , মানিব্যাগ আনতে । কথা প্রসঙ্গে তার অগ্রজ জিজ্ঞেস করেছিলো আমার ভাইকে মারলেন কেন ? RAB  এর অফিসার এর উত্তরে বলেছিলেন - "এই দুনিয়ায় অনেক কিছু কারনে অকারনে হয় , মনে করেন আপনার ভাই হঠাৎ  সুনামি এসেছিল , পানির স্রোতে ভেসে গেছেন । ভাগ্যর নির্মম পরিহাস সেই সামরিক অফিসারও পিলখানায় আকস্মিক এক সুনামিতে মারা গিয়েছিলেন । আজ  মহিমের দল রাষ্ট্র পরিচালনা করছে,  আমরা প্রত্যাশা করতেই পারি  এই সরকারের আমলে তার হত্যার বিচার, তদন্ত  হবে।

মহান আল্লাহ শহীদ মহিম উদ্দীনকে জান্নাতবাসী করুন-আমিন

হাসান মনসুর

সাঃ সম্পাদক(সাবেক)

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,চট্টগ্রাম মহানগর-কোতোয়ালী থানা শাখা।

No comments

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.