এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আদরের মেয়ে ফৌজিয়া সুলতানা ‘টুম্পা’র ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র চট্টলবীর আলহাজ্ব এবিএম
মহিউদ্দিন চৌধুরীর অতি আদরের মেয়ে ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পার আজ ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী ।
২০০৮ সালের ১৭ অক্টোবর প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী,সাবেক মেয়র চট্টলবীর আলহাজ্ব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধীর’র কন্যা ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এক-এগারো পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তখন মহিউদ্দিন চৌধীর ছিলেন কারাগারে। মেয়ের মৃত্যুর সময় পিতা হিসেবে তার শিয়রে থাকতে না পারার মানসিক যন্ত্রণা তাঁকে মৃর্তু পর্য্যন্ত বয়ে বেড়াতে হয়েছে।
টুম্পার মৃত্যুর সময় তিনি পাশে থাকতে পারলেন না। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ এই জনপ্রিয় নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। একুশ মাস বিনা বিচারে কাটাতে হয় কারাগারে। ক্যান্সারে আক্রান্ত মেয়ে তার পিতাকে মৃত্যুর আগে দেখে যেতে পারেন নি। আর পিতা মহিউদ্দিন চৌধুরীও দেখতে পারলেন না তার অতি আদরের মেয়ে ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পাকে । কী নির্মম ঘটনা।
২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৭ অক্টোবর ব্যাংকক রওনা হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বসেই টুম্পার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।
মৃত্যুর আগে প্রিয় বাবা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আদরের কন্যা ফৌজিয়া সুলতান টুম্পা লিখেছিলেন,
প্রিয় বাবা, তোমার শূন্যতা খুব বেশি অনুভব করছি। সকালে জেগে ওঠার জন্য এখন আর কেউ বকাবকি করে না। বাড়ির যে গাছগুলোতে রোজ পানি ছিটিয়ে সজীব করে রাখতে তুমি, তারাও এখন খুব বিষণ্ন, নির্জীব। ট্রাফিক সিগনালে লালবাতি জ্বলে উঠলে যে ভিখারীটি গাড়ির কাচের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে, সেও তোমার বেশ অভাববোধ করছে। আমি, আমরা সবাই তোমার অপেক্ষায় দিন গুণছি। বাবা, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তুমি ফিরে এসো বাবা। একবার আমি তোমাকে ড্যাড বলে ডাকতে চাই’
আমি কখনো তোমাকে বলতে পারিনি, তুমি আমার কাছে কী! তোমার কাছে কোনো দিন মনের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারিনি। শুধু এটুকু বলতে পারি, যখন এ চিঠি লিখছি, আমার চোখ ছাপিয়ে পানি নামছে। আমি তো কখনো তোমাকে বলতে পারিনি তুমি শ্রেষ্ঠ বাবা, তুমি আমার আদর্শ।’
আব্বু, তোমাকে কি একটা প্রশ্ন করতে পারি? তুমি তো আল্লাহকে বিশ্বাস করো। একজন ভালো মানুষের সব গুণ তোমার মধ্যে আছে। তোমার ঈশ্বর কি সেটা দেখছেন না? তিনি কি দেখছেন না তুমি কী কষ্ট পাচ্ছ? এত কিছুর পর আমি কি আল্লাহর ওপর আস্থা রাখব? কিন্তু আমি রাখছি।
সেই সকালবেলাগুলো আজ খুব মিস করছি, যখন তুমি খুব ভোরবেলা উঠে ছড়া আবৃত্তি করতে…। আব্বু, তোমাকে আজ হাজারবার ডাকতে ইচ্ছা করছে…চিৎকার করে তোমাকে ডাকতে ইচ্ছা করছে।’
লবণাক্ত অশ্রুর বিন্দু ছাড়া আমি আর তোমাকে কী দিতে পারি? যে কাগজটাতে লিখছি, সেটা আমি আর দেখতে পাচ্ছি না। আমার চোখের পানিতে কাগজটা ভিজে যাচ্ছে।’
তুমি আমার হৃদয়ের সবচেয়ে গভীরতম স্থানটিতে আছ, চিরকাল সেখানেই তুমি থাকবে।
—তোমার টুম্পা।
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পাকে জান্নাতবাসী করুণ-আমিন




No comments